নারায়ণগঞ্জে হেফাজতে ইসলাম ও স্থানীয় মুসল্লিদের আপত্তির মুখে বন্ধ হয়ে গেছে ‘মহতী সাধুসঙ্গ ও লালন মেলা’ নামের একটি অনুষ্ঠান। শুক্রবার ও শনিবার এ মেলা হওয়ার কথা থাকলেও জেলা প্রশাসনের অনুমতি না পাওয়ায় অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয়।
মেলায় অংশ নিতে কুষ্টিয়াসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে লালন ভক্তরা নারায়ণগঞ্জে এলেও শেষ পর্যন্ত তাদের সবাইকে ফিরে যেতে হয়েছে। আয়োজক ফকির শাহজালাল জানান, গত এক দশক ধরে নিয়মিত এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল।
ফকির শাহজালাল বলেন, “হেফাজত ও স্থানীয় মুসল্লিদের আপত্তির কারণে এমন একটি সাধারণ অনুষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, এ নিয়ে আমি হুমকির মুখে আছি।”
হেফাজতে ইসলাম জানিয়েছে, লালন মেলার নামে সেখানে অপসংস্কৃতির চর্চা হচ্ছিল। তাদের দাবির ভিত্তিতে এলাকাবাসীর অনুরোধে জেলা প্রশাসক অনুষ্ঠানটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন।
হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও নারায়ণগঞ্জের নেতা আব্দুল আউয়াল বলেন, “মেলার নামে মেয়েদের নাচানাচি এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলত, যা ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা মেনে নিতে পারেনি।”
এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জের সাংস্কৃতিক কর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, এটি জেলা প্রশাসনের ব্যর্থতা। এক সাংস্কৃতিক কর্মী বলেন, “প্রশাসনের উচিত ছিল এই অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।”
তবে নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহমুদুল হক জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অনুষ্ঠানটি বন্ধ করা হয়। তিনি বলেন, “পরিস্থিতি এমন জায়গায় গিয়েছিল যে মেলা চালিয়ে গেলে বড় ধরনের সংঘাতের শঙ্কা ছিল।”
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে মাজার ও ঐতিহ্যবাহী মেলার ওপর হামলা ও নিষেধাজ্ঞার ঘটনা বেড়েছে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

