চট্টগ্রামের হাটহাজারীর পুন্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ এবং সম্প্রতি গঠিত বাংলাদেশ সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ ব্রহ্মচারীকে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় দেশব্যাপী বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে, এবং প্রতিবাদ জানিয়ে সরব হয়েছেন ভারতের বিভিন্ন মহল ও বিজেপি নেতারা।
ইসকন থেকে বহিষ্কার: শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ
চিন্ময় কৃষ্ণ দাস, যার আসল নাম চন্দন কুমার ধর, ইসকনের একজন অন্যতম সংগঠক ছিলেন। তবে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে গত জুলাই মাসে তাকে ইসকন থেকে বহিষ্কার করা হয়। ইসকনের সাধারণ সম্পাদক চারু চন্দ্র দাস ব্রহ্মচারী এক সংবাদ সম্মেলনে নিশ্চিত করেন, চিন্ময় কৃষ্ণসহ কয়েকজনকে সংগঠনের যাবতীয় কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগ ও গ্রেপ্তার
চট্টগ্রামের নিউমার্কেট মোড়ের স্বাধীনতা স্তম্ভে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। এ ঘটনার জেরে সম্প্রতি তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের তদন্ত চলছে। তবে মামলার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
সমর্থকদের প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ
গ্রেপ্তারের পরপরই চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের সমর্থকরা চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করেন। সনাতন সম্প্রদায়ের কয়েক হাজার মানুষ তার মুক্তির দাবিতে অংশ নেন। তাদের দাবি, এই গ্রেপ্তার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও বিতর্ক
চিন্ময় কৃষ্ণ দাস সাম্প্রতিক সময়ে সনাতন সম্প্রদায়ের উপর ‘নিপীড়নের’ প্রতিবাদে একাধিক সমাবেশের নেতৃত্ব দেন। বিশেষত গত অক্টোবর মাসে চট্টগ্রামে একটি মিছিল চলাকালীন জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগ ওঠে। এরপর থেকেই তার কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্ক দানা বাঁধে।
প্রশাসনের অবস্থান
ঢাকা মহানগর পুলিশের মুখপাত্র তালেবুর রহমান জানিয়েছেন, চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে ইসকনের নেতা হিসেবে নয়, বরং রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বলেন, “বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র মেনে নেওয়া হবে না।”
এদিকে, তার গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

