আদানি গ্রুপের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগে শুধু ভারতের শীর্ষ ব্যবসায়ী গৌতম আদানিই নয়, প্রভাব পড়ছে দেশটির অর্থনীতিতেও। যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে আদানি গ্রুপের বিরুদ্ধে ২৫ কোটি ডলারের ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর থেকেই শেয়ারবাজারে বড় ধস নেমেছে। একদিনেই কোম্পানিটি খুইয়েছে ৩,৪০০ কোটি ডলারের বাজারমূল্য, যা কোম্পানির সামগ্রিক ব্যবসার উপর গভীর প্রভাব ফেলছে।
বিশাল সাম্রাজ্যে আঘাত
গৌতম আদানির প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে বন্দর পরিচালনা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এবং সিমেন্টসহ নানা খাতে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। তবে অভিযোগের ফলে তাদের ১৬ হাজার ৯০০ কোটি ডলারের সাম্রাজ্যে বড় ধাক্কা লেগেছে। শেয়ারবাজারে এই ক্ষতির কারণে আদানি গ্রুপের ১০টি প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত বাজারমূল্য নেমে এসেছে ১৪ হাজার ৭০০ কোটি ডলারে।
আন্তর্জাতিক প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া
নিউইয়র্কের আদালতে অভিযোগ ওঠার পর আদানি গ্রুপের সঙ্গে ২৫০ কোটি ডলারের একটি প্রকল্প বাতিল করেছেন কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো। এই প্রকল্পগুলোর মধ্যে বিমানবন্দর এবং বিদ্যুৎ খাতের গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি ছিল।
অন্যদিকে ভারতের বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধী আদানির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছেন।
অভিযোগ অস্বীকার
আদানি গ্রুপ তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে। কোম্পানিটি জানায়, তারা ৬০ কোটি ডলারের একটি বন্ড অফারের পরিকল্পনা বাতিল করেছে।
ভারতের অর্থনীতিতে প্রভাব
গৌতম আদানির ব্যবসা ভারতের অর্থনীতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। তিনি ১৩টি বন্দর, ৭টি বিমানবন্দর এবং ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম সিমেন্ট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণে রয়েছেন। এছাড়াও তার কোম্পানি বিদ্যুৎ, অবকাঠামো এবং বস্তি পুনর্গঠনে বড় ভূমিকা রাখছে।
বিশ্বজুড়ে প্রভাব বিস্তার
ভারতের পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, কেনিয়া এবং তানজানিয়াসহ বিভিন্ন দেশে আদানি গ্রুপের প্রকল্প রয়েছে।
মোদি সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের বিতর্ক
গৌতম আদানির উত্থান নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে তিনি ব্যবসায় বিশেষ সুবিধা পেয়েছেন।
গৌতম আদানি একসময় বিশ্বের দ্বিতীয় ধনী ব্যক্তি ছিলেন। তবে সাম্প্রতিক বিতর্ক তার সাম্রাজ্যের জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।

